ব্যাকলিংক কি ? কিভাবে ব্যাকলিংক তৈরি করবেন (Step By Steb)

ব্যাকলিংক (Backlink), এই শব্দটি আমরা যারা এসইও জগতে কাজ করি তাদের কাছে অনেক পরিচিত এবং কিছুটা বিভ্রান্তিকরও বটে। আমার এই শব্দটির ব্যবহারে হয়তবা অনেকেই মনে করছেন “বিভ্রান্তিকর” কেন বললাম?​

ব্যাকলিংক কি  কিভাবে ব্যাকলিংক তৈরি করবেন (Step By Steb)

আসলে আমরা অনেকেই জানিনা যে, ব্যাকলিংক (Backlink) প্রকৃতপক্ষে কি এবং কিভাবে এটি আমাদের সাইটের জন্য কাজ করে।ব্যাকলিংক এবং এর কার্যপ্রণালী এসইও এক্সপার্টদের কাছে আজও একটি ধাঁধা। 


আমরা সবাই জানি যে, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কোন নির্দিষ্ট কাজের নাম নয়। যে ধরনের কাজগুলির মাধ্যমে কোন ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনে র‌্যাংক করানো সম্ভব হয়, তার সবই এসইও এর অর্ন্তভুক্ত। যার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান হচ্ছে ব্যাংকলিংক


"ব্যাকলিংক কি" এবং "কিভাবে ব্যাকলিংক তৈরি করবেন", এই ব্যাপারটা নিয়ে অনেক ব্লগাররাই আজ চিন্তিত। তবে, আপনার যদি একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইট রয়েছে, এবং আপনি যদি Google search engine থেকে ওয়েবসাইটে প্রচুর ফ্রি ট্রাফিক ও ভিসিটর্স পেতেচান, তাহলে আপনার তৈরি করতে হবে ব্যাকলিংক (backlink).আগেই বলেছি যে, এসইও একটি চলমান ও পরিবর্তনশীল প্রক্রিয়া। 


সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন ওয়েবমাস্টারদের কাছে যেদিন থেকে গুরুত্ব লাভ করতে থাকে, সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত কয়েক শতাধিক কাজ এসইও’র অর্ন্তভুক্ত হয়েছে। আবার সার্চ ইঞ্জিনের বিভিন্ন সময়ের আপডেটের সাথে সাথে তার মধ্যে অনেক কাজই তালিকা থেকে বাদও পড়ে গেছে।


ব্যাকলিংকের কন্সেপ্টটি একটু জটিল হওয়াতে আমি চেষ্টা করবো প্রতিটি আলোচনার সাথে কিছু সহজ উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়গুলি আপনাদের কাছে সহজবোধ্য করে তুলে ধরার। তাহলে চলুন দেরি না করে জেনে নিই ব্যাকলিংকের আদ্যপান্ত।

    ব্যাকলিংক, Off page SEO র একটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এবং, এর দ্বারা আপনারা নিজের ওয়েবসাইট বা ব্লগের Search engine ranking অনেক বেশি ভালো Rank করে নিতে পারবেন।কারণ, ওয়েবসাইটের কোয়ালিটি ব্যাকলিংক যতটা বেশি বাড়বে, আপনার ব্লগের domain authority ও ততটাই ভালো হবে।


    মনে রাখবেন, আপনার ওয়েবসাইটের domain authority যতটাই বেশি ভালো হবে, ততটাই বেশি Google আপনার লেখা আর্টিকেল গুলি তার সার্চ রেজাল্টে ভালো জায়গায় রাংক (rank) করবে।


    এতে, আপনার ব্লগে গুগল থেকে আশা ট্রাফিকের পরিমান বাড়তে থাকবে।ওয়েবসাইটের Domain authority (DA) অধিক ভালো থাকা মানে, গুগলের নজরে সেই ওয়েবসাইটের কোয়ালিটি অনেক ভালো এবং তাই সার্চ রেজাল্টে তার গুরুত্ব (importance) অনেক।


    ব্লগিং এ সফলতা পাওয়ার জন্য, আপনার ব্লগে সার্চ ইঞ্জিন থেকে প্রচুর পরিমানে ট্রাফিক বা ভিসিটর্স আসতেই হবে।এবং তাই, আজ নাহয় কাল, নিজের ব্লগের জন্য ব্যাকলিংক (backlink) বানানোর আজ আপনার শুরু করতেই হবে।


    মনে রাখবেন, গুগল সার্চ ইঞ্জিন থেকে নিজের ওয়েবসাইটে রেগুলার ট্রাফিক পাওয়ার জন্য আপনার কিন্তু প্রথম থেকেই ব্যাকলিংক (backlink) তৈরি করতে থাকতেই হবে।তাছাড়া, এই ব্যাকলিংক বানানোর প্রক্রিয়া সব সময় চালিয়ে যেতে হবে।


    কিন্তু, আপনার মতোই অনেক ব্লগার রয়েছেন, যারা (backlink মানে কি) এবং (কিভাবে ব্যাকলিংক তৈরি করতে হয়), সে বেপারে জানেননা।

    ফলে, তারা গুগল সার্চ ইঞ্জিন থেকে ট্রাফিক অনেক কম পরিমানে পাচ্ছেন।তাই, এই আর্টিকেলে আমি আপনাদের “ওয়েবসাইটের ব্যাকলিংক কি ” এবং “কিভাবে এস ই ও (SEO) ব্যাকলিংক তৈরি করবেন”, সেই ব্যাপারে সবটাই ভালো করে বলে দিবো। 

    ব্যাকলিংক কি?


    ব্যাকলিংক কি:-ব্যাকলিংক হলো একটি অনলাইন লিংক যা অন্য কোন ওয়েব পেজ থেকে আপনার কোন ওয়েব পেজকে নেভিগেট বা নির্দেশ করে। সহজ ভাষায় অন্য কোন ওয়েবসাইট থেকে নিজের সাইটের জন্য পাওয়া লিংকই হলো (ব্যাকলিংক)। 


    এ কারণে এটিকে ইনবাউন্ড লিংক বা ইনকামিং লিংকও বলা হয়ে থাকে।অপরদিকে আপনি যদি অন্য কোন সাইটের কোন পেজের লিংক আপনার সাইটের কোন পেজে দেন, তাহলে সেটি হবে ওই সাইটের জন্য ব্যাংলিংক এবং আপনার জন্য সেটি হবে আউটবাউন্ড বা আউটগোয়িং লিংক।


    তবে নিঃসন্দেহে কেউই আপনার ওয়েবসাইটের লিংক বিনা প্রয়োজনে তার ওয়েবসাইটে দেবে না। আপনার ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট যদি যথেষ্ট তথ্য সমৃদ্ধ ও সঠিক হয় এবং একই সাথে যে কারো জন্য সহজবোধ্য হয়, তবেই হয়তো কোন ওয়েবসাইট আপনাকে ব্যাকলিংক দিতে আগ্রহী হতে পারে।ধরে নিন, আপনি কিভাবে অনলাইনে একটি সুন্দর জীবন বৃত্তান্ত তৈরী করতে হবে তার উপর একটি আর্টিকেল লিখলেন। 


    এমন অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে যাবা কিভাবে কোন চাকুরীর আবেদন করতে হবে তার উপর একটি টিউটোরিয়াল আর্টিকেল বা ভিডিও আকারে প্রকাশ করছে। এখন চাকুরীর আবেদন করতে হলে অবশ্যই জীবন বৃত্তান্ত প্রয়োজন হবে। 


    সেক্ষেত্রে দেখা যাবে অনেক ওয়েবসাইটই জীবন বৃত্তান্ত তৈরীর ক্ষেত্রে আপনার প্রকাশকৃত আর্টিকেলটি তাদের ভিজিটরদের দেখে নেওয়ার জন্য রেফার করবে।আর আপনার ওয়েবসাইটের যে পেজটিতে জীবন বৃত্তান্ত তৈরীর আর্টিকেলটি দেওয়া রয়েছে সেই পেজের লিংকটি তাদের টিউটোরিয়ালের সাথে সংযুক্ত করবে। ওই ওয়েবসাইটে থাকা আপনার ওয়েবপেজের লিংকটিই হলো আপনার জন্য একটি ব্যাংকলিংক।

    ব্যাকলিংকের প্রয়োজনীয়তা?

    ব্যাকলিংকের প্রয়োজনীয়তা:সম্প্রতি MOZ.Com তাদের একটি ৫০ হাজার এসইও এক্সপার্টদের উপর করা জরিপ প্রকাশ করে। এই জরিপে তাদের বিভিন্ন ধরনের এসইও সম্পর্কিত প্রশ্ন করা হয়। এই জরিপে দেখা যায় বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের ক্ষেত্রে তাদের উত্তর আলাদা আলাদা হলেও “র‌্যাংকিং এর ক্ষেত্রে সার্চ ইঞ্জিনকে কোন জিনিস সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে?” শুধুমাত্র এই প্রশ্নটির ক্ষেত্রে ৯৫ শতাংশ এসইও গুরু একমত পোষন করে উত্তর দেন “ব্যাকলিংক”।এটি থেকে সহজেই ব্যাকলিংকের প্রয়োজনীয়তা অনুমান করা সম্ভব।


    আপনার ওয়েবসাইটে থাকা কোন পেজ কতটা তথ্য সমৃদ্ধ তা সার্চ ইঞ্জিন ব্যাংকলিংক দ্বারা বুঝতে পারে। যত ভালো মানের ওয়েবসাইট থেকে আপনি ব্যাকলিংক পাবেন, ততটাই আপনার ওয়েবসাইটের র‌্যাংক হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে থাকবে।বিষয়টি আরো একটু সহজভাবে তুলে ধরি। ধরে নিন আপনারা ২জন বন্ধু একসাথে বসে গল্প করছেন। এখন আপনার মনে পড়লো আপনার একটি বই কেনা প্রয়োজন। 


    আপনি বইটি কোথায় পাওয়া যাবে সে ব্যাপারে আপনার বন্ধুর সাথে আলোচনা করলে আপনার বন্ধু আপনাকে একটি লাইব্রেরীর ঠিকানা দিল যেখানে বইটি পাওয়া যাবে। তখন আপনি নিশ্চয়ই অন্য কোন লাইব্রেরীতে না যেয়ে সরাসরি আপনার বন্ধুর বলা লাইব্রেরী থেকেই বইটি কিনতে যাবেন। কারণ আপনি আপনার বন্ধুকে বিশ্বাস করেন।

    সার্চ ইঞ্জিনের র‌্যাংকিংয়ের বিষয়টাও ঠিক এ রকম। এক বা একাধিক ওয়েবসাইটেও যদি একই বিষয়ে কন্টেন্ট থেকে থাকে, তাহলে সার্চ ইঞ্জিন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবে সেই ওয়েবসাইটকে যার বেশি পরিমাণ ভালো কোয়ালিটি সম্পন্ন ব্যাকলিংক রয়েছে। এখানে ভালো কোয়ালিটির কথা কেন বললাম সেটা পরের অংশে আলোচনা করছি।

    কেমন ব্যাকলিংক প্রয়োজন?

    উপরের আলোচনার পর হয়তো অনেকেরই মনে হতে পারে যে, অধিক সংখ্যাক ব্যাক লিংক তৈরী করা গেলেই হয়তো সার্চ ইঞ্জিনে র‌্যাংক পাওয়া যাবে। বিষয়টা আসলে আংশিক সত্য। আংশিক বলার কারণ হলো সার্চ ইঞ্জিন ওয়েবসাইটের ব্যাকলিংকগুলিকে কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে গুরুত্ব দিয়ে থাকে।অনেক সময় দেখা যায় অনেক বেশি সংখ্যক ব্যাকলিংক নিয়েও কম্পেটিটর ওয়েব পেজের উপরে র‌্যাংক পাওয়া যায় না। কখনো ভেবে দেখেছেন এর কারণ কি? যদি এমন কখনো হয়ে থাকে, তাহলে বুঝবেন, যে ওয়েবসাইটটি র‌্যাংকিংয়ে উপরে রয়েছে তার ব্যাংকলিংক কোয়ালিটি ভালো।

    এখন কিভাবে বুঝবেন কোনটা ভালো কোয়ালিটি আর কোনটা ভালো কোয়ালিটি না। আসলে আমি কোন লিংককেই খারাপ বলতে চাইছি না। তবে এখানে কম্পিটিশনটা ভালো আর বেশি ভালোর মধ্যে।উদাহরণ স্বরুপ ধরে নিন, আপনি যদি কক্সবাজারে ঘুরতে যেতে চান। 


    এখন আপনি সেখানে কিভাবে যেতে হবে বা পৌছে কেমন খরচে থাকা যাবে এসব ব্যাপারে জানার জন্য আপনার কয়েকজন বন্ধুর কাছে পরামর্শ নিলেন। এখন এদের মধ্যে যদি এমন কেউ থাকে যে এর আগে কক্সবাজার থেকে ঘুরে এসেছে, তাহলে অবশ্যই আপনার কাছে সেই বন্ধুটির মতামতই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে।


    ঠিক তেমনভাবেই যত ভালো মানের ওয়েবসাইট থেকে আপনি ব্যাকলিংক নিতে পারবেন, তা আপনার সাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের কাছে তত বেশি গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে সাহায্য করবে। আপনার লিংকটি যে পেজে প্রকাশিত হবে সেই পেজটিও যদি আপনার পেজের বিষয় নির্ভর হয়ে থাকে, তাহলে সেটি খুবই কার্যকর ইনকামিং লিংক হিসেবে বিবেচিত হবে।

    কোন ওয়েবসাইটের জন্য ব্যাক লিংক পাওয়া বর্তমানে এসইও’র সবচেয়ে কঠিনতম অংশ। এর জন্য কঠোর পরিশ্রম প্রয়োজন। আপনার ওয়েবসাইট যদি খুব বেশি জনপ্রিয় না হয়, তাহলে ভালো কোন ওয়েবসাইটই নিজ থেকে আপনাকে ব্যাংলিংক দিতে আসবে না। 


    আবার মানসম্পন্ন ওয়েবসাইট যদি না হয়, তাহলে সেরকম ওয়েবসাইট থেকে ব্যাকলিংক নিয়েও কোন লাভ হবে না।কি চিন্তায় পড়ে গেলেন? চিন্তার কোন কারণ নেই। ভালো মানের ব্যাংলিংক তৈরীর বেশ কিছু পদ্ধতি রয়েছে। আপনারা যদি ভালো মানের ব্যাংলিংক তৈরীর বেস্ট উপায়গুলো সম্পর্কে জানতে চান, তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করতে ভুলবেন না।

    ওয়েবসাইটের ব্যাকলিংক কি ?


    সোজা ভাবে বললে, backlinks হলো search engine optimization (SEO) এর এক অনেক জরুরি অংশ এবং নিজের ব্লগের Domain authority, Search engine preference ও search engine ranking বাড়ানোর জন্য আমাদেরকে ওয়েবসাইটের ব্যাকলিংক তৈরি করতে হয়।


    এখন ব্যাকলিংকের ব্যাপারটা যদি আপনাদের ভালো করে বুঝিয়ে বলি, তাহলে বুঝতে হয়তো অল্প সময় লাগতে পারে।


    ব্যাকলিংক মানে হলো, আপনার ওয়েবসাইটের “URL লিংক” অন্য একটি ওয়েবসাইটে থাকা। এবং, এভাবে সেই ওয়েবসাইট থেকে আপনি আপনার ওয়েবসাইটের জন্য একটি এক্সটার্নাল লিংক (external link) পাওয়া।


    উদাহরণ স্বরূপে, ধরুন আমি আমার ব্লগে একটি আর্টিকেল লিখছি। এবং, আমার আর্টিকেলের একটি অংশতে আমি আপনার ব্লগের একটি “আর্টিকেলের URL Link” দিয়ে দিলাম।এতে হবে কি যে, আপনি আমার ব্লগ বা ওয়েবসাইটের থেকে নিজের ব্লগ বা ওয়েবসাইটে আর্টিকেলে দিয়ে দেয়া URL link এর মাধ্যমে একটি quality backlink পেয়ে যাবেন।


    এবং, এভাবেই বিভিন্ন মাধ্যমে অন্য অন্য ওয়েবসাইট বা ব্লগ গুলিতে যখন আপনার নিজের ব্লগের URL address থাকবে, তখন সেই প্রত্যেক external link গুলি হবে আপনার ওয়েবসাইটের ব্যাকলিংক।তারপর, সেই backlink বা external link গুলির মাধ্যমে Google bots আপনার ওয়েবসাইটে link juice pass করে।


    যার ফলে, আপনার ব্লগের প্রতি গুগলের বিশ্বাস বাড়ে এবং পরে ওয়েবসাইটের Google search ranking আরো ভালো হয়ে দাঁড়ায়।বুঝতে পারছেন তো ? আশা করি বুঝেছেন। যদি এখন আপনারা ব্যাকলিংক মানে কি, এই বিষয়ে বুঝে গেছেন, তাহলে নিচে জেনেনিন “ব্যাকলিংক এর প্রকারের ব্যাপারে  বা ব্যাকলিংক কত প্রকারের “.

    ব্যাকলিংক কত প্রকারের এবং কি কি ?


    নিচে, আমি backlinks এর কিছু প্রকার ও ভিন্নতার বিষয়ে আপনাদের জানিয়ে দিচ্ছি। এতে, ব্যাকলিংক এর ব্যাপারটা আপনারা আরো পরিষ্কার করে জানতে পারবেন।

    • Internal links : ইন্টারনাল লিংক হলো আমাদের নিজেদের ব্লগের ভেতরেই থাকা backlinks. মানে, যখন আমরা ব্লগে আর্টিকেল লিখি, তখন নিজের ব্লগের কিছু অন্য আর্টিকেলের লিংক দিয়ে internal backlinks তৈরি করতে পারি।
    • External links : যা আমি ওপরে আগেই বলেছি, এই ধরণের backlinks আপনারা অন্যদেড় ব্লগ বা ওয়েবসাইটে গিয়ে বানাতে হয়। মানে, অন্য ওয়েবসাইট থেকে আমাদের ওয়েবসাইটে আশা লিংক (link).
    • Link juice : অন্যের ব্লগ বা ওয়েবসাইটে hyper link এর মাধ্যমে যখন backlink তৈরি করা হয়, তখন Google bots সেই লিংক গুলি follow কোরে আপনার ব্লগে link juice পাস করে। এই লিংক জুস আপনার ব্লগের Domain Authority বাড়িয়ে search engine traffic বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
    •  Low – quality links : যখন খারাপ, spam, low quality বা harvested website থেকে আপনার ওয়েবসাইটে backlink আসে তখন low quality links তৈরি হয়। এই ধরণের backlinks আপনার ব্লগের জন্য অনেক খতিকারক।
    • High – quality links : যখন কোনো ভালো এবং high quality website যার DA এবং PA অনেক ভালো, তার থেকে আপনার ব্লগে backlink আসে, তখন সেই ব্যাকলিংক high quality external link.
    • No – follow links : যখন, অন্যদের ওয়েবসাইট থেকে আশা backlink গুলিতে “rel=nofollow” ট্যাগ ব্যবহার করা থাকে তখন সেই ব্যাকলিংক গুলি নো ফলো ব্যাকলিংক। এই ধরণের লিংকের মাধ্যমে google bot তাদের link juice পাস করেননা। তাই, এই ধরণের backlinks বিশেষ কাজের না।
    • Do – follow links : যখন আমাদের ব্লগে অন্যদের ওয়েবসাইট থেকে আশা লিংক গুলিতে “rel=nofollow“ ট্যাগ ব্যবহার করা হয়না, তখন সেই লিংক গুলি do – follow লিংক। এবং, এই ধরণের লিংকের মাধ্যমে গুগল তার লিংক জুস পাস করে। তাই, এই ধরণের ব্যাকলিংক আপনার ব্লগের জন্য অনেক কাজের।

    তাহলে, এখন আপনারা হয়তো ব্যাকলিংক এর প্রকারের বিষয়ে সবটাই ভালো কোরে বুঝে গেছেন। এখন আমরা নিচে জানবো যে “কিভাবে নিজের ওয়েবসাইটের জন্য ব্যাকলিংক তৈরি করবো

    কিভাবে ব্যাকলিংক তৈরি করবেন ?


    কিভাবে ব্যাকলিংক তৈরি করবেন;-ব্যাকলিংক তৈরি করার নিয়ম এমনিতে অনেক রয়েছে। কিন্তু, ওয়েবসাইটের জন্য ব্যাকলিংক বানানোর সময় আপনার অনেক জিনিসের ওপরে ধ্যান অবশই দিতে হবে।যেমন, যেকোনো লো কোয়ালিটি ও low domain authority থাকা ওয়েবসাইট থেকে ব্যাকলিংক নিবেননা।


    সব সময়, ভালো কোয়ালিটি ও ভালো ডোমেইন অথরিটি থাকা ওয়েবসাইট গুলির থেকেই backlinks নিবেন।তাছাড়া, একসাথেই অধিক পরিমানে ব্যাকলিংক তৈরি করলে, গুগল আপনার ব্লগকে spam হিসেবে ধরে নিতে পারে।


    এতে, আপনার গুগল সার্চের ranking অনেক অনেক বেশি কোমে যাবে। এবং, গুগল আপনার ওয়েবসাইট চিরকালের জন্য নিজের সার্চ থেকে সরিয়ে দিতে পারে।তাই, সব সময় ভালো domain authority থাকা High quality এবং clean ওয়েবসাইট থেকেই ব্যাকলিংক বানানোর চেষ্টা করবেন।
    আপনারা ওয়েবসাইটের authority চেক করার জন্য, এই ওয়েবসাইটে যেতে পারেব – “Check website authority“.

    নিরাপদ ভাবে ব্যাকলিংক বানানোর ৫ টি নিয়ম?


    নিচে দেয়া উপায় গুলি ব্যবহার কোরে, আমি আমার নিজের ব্লগের জন্য backlink তৈরি করি। এবং, আপনিও চাইলে ব্যাকলিংক তৈরি করার এই উপায় গুলি ব্যবহার করতে পারবেন। 

    #ব্লগ মন্তব্য:-


    Blog commenting, মাধ্যম ব্যবহার কোরে backlink তৈরি করা সব থেকে সহজ উপায়। এবং, এই মাধ্যম আজ প্রায় প্রত্যেক ব্লগার ব্যবহার করছেন।এখানে আপনার করতে হবে যে, নিজের ব্লগের আর্টিকেলের বিষয়ের সাথে জড়িত কিছু অন্য ব্লগ খুঁজতে হবে (গুগলে সার্চ করলেই পাবেন).তারপর, ৫ থেকে ৬ টি ব্লগ খুঁজে সেগুলিতে গিয়ে তাদের যেকোনো আর্টিকেলে আপনার করতে হবে কমেন্ট (comment).কমেন্টে করার সময় আপনি আপনার ব্লগের URL Address সেই কমেন্টে যোগ করে কমেন্ট submit করতে হবে।

    অনেক ব্লগের ক্ষেত্রে, কমেন্ট করার সময় আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটের এড্রেস দেয়ার কথা বলা হয়। সেরকম হলে, নিজের ব্লগের এড্রেস অবশই দিয়ে দিবেন।এখন, comment জমা দেয়ার পর, যখন সেই কমেন্ট সেই আর্টিকেলের comment section এ দেখানো হবে, তখন আপনি আপনার ওয়েবসাইটের জন্য ব্যাকলিংক পেয়ে যাবেন।

    এভাবে, বিভিন্ন ব্লগের আর্টিকেলের নিচে থাকা কমেক্ট অপশনের ব্যবহার কোরে আপনারা backlink তৈরি করতে পারবেন।কিন্তু, মনে রাখবেন, নিজের ব্লগের আর্টিকেলের সাথে জড়িত ব্লগ বা ওয়েবসাইট গুলিতেই কেবল কমেন্ট করবেন।এবং, “low quality” বা “spammy” ওয়েবসাইট গুলিতে কমেন্ট কখনো করবেননা।

    #.Quara প্রশ্নোত্তর সাইট?


    Quora এমন এক question & answer ওয়েবসাইট, যেখানে জেকেও লোকেদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন। এবং, নিজের দেয়া উত্তরের সাথে আপনি আপনার ব্লগ ও ওয়েবসাইটের লিংক দিয়ে দিতে পারবেন।

    Quora, অনেক high quality, প্রচলিত এবং জনপ্রিয় একটি ওয়েবসাইট যার domain authority হলো 98, যেটা অনেক বেশি।এবং, কোৱা (quora) থেকে নিজের ওয়েবসাইটে ব্যাকলিংক পাওয়াটা অনেক বেশি লাভজনক হবে।


    কেবল, নিজের ব্লগের আর্টিকেলের সাথে জড়িত প্রশ্ন quora তে খুজুন এবং তারপর সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তাতে নিজের আর্টিকেলের URL link ও দিয়ে দিন।এভাবে, ব্লগের জন্য কোয়ালিটি ব্যাকলিংক তৈরি করাটা অনেক সহজ। ব্যাকলিংক বানানোর এইটা আমার সবথেকে প্রিয় মাধ্যম।

    #.অতিথি পোস্টিং (সেরা মাধ্যম)

    Guest posting একটি ওয়েবসাইটের জন্য ব্যাকলিংক বানানোর সবথেকে ভালো এবং লাভজনক উপায়।কেননা, guest posting এর মাধ্যমে আপনারা contextual backlinks পেয়ে যাবেন এবং সেই লিংকের কোয়ালিটি সেরা।“Guest posting” মানে হলো, নিজের ব্লগের বিষয়ের সাথে জড়িত অন্যদের ব্লগ বা ওয়েবসাইটে আর্টিকেল লিখে publish করা।এবং, অন্যদের ব্লগে আর্টিকেল লেখার সময় সেই আর্টিকেলে আপনি নিজের ব্লগের URL link দিয়ে দিতে হবে।


    এতে, আপনি সেই ব্লগের থেকে নিজের ব্লগে একটি ভালো কোয়ালিটির ব্যাকলিংক পেয়ে যাবেন।এমনিতে, এই প্রক্রিয়া আপনার বেশি ব্যবহার করার দরকার নেই। মাসে, ২ থেকে ৩ টি high quality ব্লগে guest posting করলেই হয়ে যাবে।কিন্তু, যেই ব্লগে গেস্ট পোস্টিং কোরতে চাচ্ছেন, সেই ব্লগে যাতে DA এবং PA অধিক থাকে, সেই বেপারে খেয়াল রাখবেন।তাছাড়া, নিজের ব্লগের niche বা topic এর সাথে জড়িত ব্লগেই গেস্ট পোস্টিং করবেন।


    সবটাই দেখে নেয়ার পর, ব্লগ ও ওয়েবসাইট মালিকের সাথে যোগাযোগ কোরে, guest posting এর জন্য আপনার অনুমতি নিতে হবে।অনুমতি পেয়ে গেলে, আপনারা তাদের ব্লগে একটি আর্টিকেল লিখে তাতে লিংক দিয়ে নিজের ব্লগের জন্য ব্যাকলিংক তৈরি করতে পারবেন।

    #.ডিরেক্টরি জমা দেওয়ার সাইটগুলি;-


    কিছুদিন আগে অব্দি, ব্যাকলিংক বানানোর এই প্রক্রিয়া অনেক প্রচলিত ছিল। তবে, আজ এই মাধ্যম অনেক কম লোকেরা ব্যবহার করছেন।এই প্রক্রিয়াতে, আপনি আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটের URL address বিভিন্ন web directory website গুলিতে জমা করতে হয়।


    Web directory websites গুলিতে, বিভিন্ন রকমের হাজার হাজার ওয়েবসাইটের তালিকা (list) থাকে। বিভিন্ন category হিসেবে আলাদা আলাদা ওয়েবসাইটের link এবং details দেয়া থাকে।


    এবং তাই, web directory গুলি থেকে আশা ব্যাকলিংক ভালো কোয়ালিটির হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম।কিন্তু, যদি আপনারা কিছু ভালো web directory ব্যবহার করেন, যেগুলির quality ভালো, spam মুক্ত এবং DA অনেক বেশি, তাহলে এখনো ভালো পরিমানে high quality backlink তৈরি করার এই প্রক্রিয়া সেরা।


    কিছু ভালো এবং high quality web directory সাইট গুলি হলো –
    1. Best Of The Web
    2. AboutUs
    3. Blogarama
    4. Indiblogger
    5. Blogadda

    #.সামাজিক নেটওয়ার্কিং সাইট প্রোফাইল?


    ওয়েবসাইটের জন্য ভালো কোয়ালিটির ব্যাকলিংক পাওয়ার জন্য এই মাধ্যম অনেক কাজের। বাস, আপনার কেবল কিছু popular এবং ভালো social networking website গুলিতে গিয়ে profile বানাতে হবে।এবং, Profile বানানোর সময় আপনাদের নিজের ওয়েবসাইটের লিংক দেয়ার একটি অপসন প্রায় প্রত্যেক social media website গুলিতে থাকে।


    শেষে, যখন আপনারা বিভিন্ন social media sites যেমন YouTube, Facebook বা Twitter এর বানানো প্রোফাইলে নিজের ওয়েবসাইটের লিংক দেন, তখন সেখান থেকেও আপনারা পেয়েযান একটি ব্যাকলিংক।তাছাড়া, বিভিন্ন social networking sites, প্রোফাইল তৈরি করার সময় আপনাকে নিজের বিষয়ে কিছু লিখতে বলে (about or bio)।নিজের bio বা about me section এও আপনারা নিজের ব্লগের URL link দিয়ে backlink আয় করতে পারবেন।

    Conclusion


    তাহলে বন্ধুরা, ব্যাকলিংক কি (What Is Backlink) এবং কিভাবে নিজের ওয়েবসাইটের জন্য ব্যাকলিংক তৈরি করবেন, সেই ব্যাপারটা হয়তো আপনার ভালো কোরেই বোঝা হয়ে গেছে।যেকোনো ব্লগের আর্টিকেল গুগলের সার্চে প্রথম ৫ টি রেজাল্টে আনতে হলে, 


    আপনার ব্লগের ব্যাকলিংকের সংখ্যা ভালো থাকতেই হবে।যত বেশি ভালো এবং quality backlinks আপনার ব্লগে থাকবে, ততোটাই বেশি গুগল আপনার ব্লগের ওপরে বিশ্বাস করবে। এবং ফলে, আপনার ব্লগের search engine traffic অধিক বৃদ্ধি পাবে।

    By commenting you acknowledge acceptance of Whatisloved.com-Terms and Conditions

    Post a Comment

    By commenting you acknowledge acceptance of Whatisloved.com-Terms and Conditions

    Post a Comment (0)

    Previous Post Next Post