সিজার কিঃ সিজার কেন প্রয়োজন / সিজারে একটা মেয়ের কি কি ক্ষতি হয়?

সিজারঃ অনেক ক্ষেত্রে মা এবং বাচ্চার স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে সিজার করা সবচেয়ে নিরাপদ হতে পারে। যেহেতু সিজার একটি বড় অপারেশন তাই এর জন্য ভাল হাসপাতালে যাওয়া প্রয়োজন যেখানে সব রকম সুবিধা রয়েছে। সিজারের জন্য প্রথমে পেট এবং তারপর জরায়ুর দেয়াল কেটে বাচ্চা প্রসব করানো হয়। সাধারনত বিকিনি লাইন (প্যান্টি যেখানে পরা হয়) তার নীচে পেট কাটা হয় যেন তা যোনির চুলের মধ্যে ঢাকা পড়ে যায়। 

    যমজ সন্তান থাকলে সাধারনত সিজার করা হয়। তবে গর্ভাবস্থায় কোনও সমস্যা ছিল কি না বা বাচ্চা কোন অবস্থায় আছে, গর্ভফুল কয়টি ইত্যাদি বিষয়ের ওপর এটি নির্ভর করবে। সিজার করতে হলে আপনার ডাক্তার আগেই আপনাকে বুঝিয়ে বলবেন কেন তা প্রয়োজন। আপনার কিছু জিজ্ঞাসা থাকলে অবশ্যই ডাক্তারকে জানান।

    সিজার কি?

    সিজারঃ অনেক ক্ষেত্রে মা এবং বাচ্চার স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে সিজার করা সবচেয়ে নিরাপদ হতে পারে। যেহেতু সিজার একটি বড় অপারেশন তাই এর জন্য ভাল হাসপাতালে যাওয়া প্রয়োজন যেখানে সব রকম সুবিধা রয়েছে। সিজারের জন্য প্রথমে পেট এবং তারপর জরায়ুর দেয়াল কেটে বাচ্চা প্রসব করানো হয়। সাধারনত বিকিনি লাইন (প্যান্টি যেখানে পরা হয়) তার নীচে পেট কাটা হয় যেন তা যোনির চুলের মধ্যে ঢাকা পড়ে যায়। যমজ সন্তান থাকলে সাধারনত সিজার করা হয়। তবে গর্ভাবস্থায় কোনও সমস্যা ছিল কি না বা বাচ্চা কোন অবস্থায় আছে, গর্ভফুল কয়টি ইত্যাদি বিষয়ের ওপর এটি নির্ভর করবে। সিজার করতে হলে আপনার ডাক্তার আগেই আপনাকে বুঝিয়ে বলবেন কেন তা প্রয়োজন। আপনার কিছু জিজ্ঞাসা থাকলে অবশ্যই ডাক্তারকে জানান।

    সিজার কিঃ “সিজার হচ্ছে মায়ের পেট ও জরায়ুর দেয়াল কেটে বাচ্চা প্রসব করানোর একটা পদ্ধতি সিজার হতে পারে প্ল্যানড্/ ইলেক্টিভ গর্ভাবস্থায়ই যখন সিজার করা প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে বা মা নিজ ইচ্ছায় যখন সিজার করাতে চান”।

    ইমারজেন্সি যখন মা এবং বাচ্চার কোনও সমস্যার কারনে সিজার করা হয়। সিজার করা হয় কোমরের নিচ থেকে অবশ করে। এর প্রভাব ৩০-৪৫ মিনিট পর্যন্ত থাকে। একে স্পাইনাল এ্যানেস্থেসিয়া বলে।

    সিজার কেন প্রয়োজন হয়ঃ 

    সিজার কত প্রকারঃ বন্ধুরা উপরে আমরা জনলাম (সিজার কি) এখন নিচে জানবো বাংলাদেশে সিজার প্রয়োজন হয়। নিচে আমি আপনাদের কয়েক বিশেষ কারন বলবো যেগুলার কারনে একটা মায়ের (সিজার করা প্রয়োজন হয়)। চলুন যেনে নেওয়া যাক-

    প্ল্যান সিজারঃ অনেক মায়েরাই প্রসব ব্যাথা ভয় পান এবং তারা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় না গিয়ে সিজার করাতে চান। এরকম হলে তাদের স্বাভাবিক ডেলিভারির সুবিধা এবং সিজারের অসুবিধাগুলি জানিয়ে দেয়া উচিৎ; যদিও কিভাবে সন্তান প্রসব করাবেন তা ঠিক করবেন মা ই। আগে থেকে সিজার করার চিন্তা করে থাকলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্বাভাবিক প্রসব করা সম্ভব হয় না। যেমন-

    প্রচন্ড প্রি-একলাম্পসিয়াঃ মায়ের উচ্চ রক্তচাপ থাকতে পারে। যার কারণে পরবর্তীতে খিঁচুনী হতে পারে। গর্ভাবস্থা চালিয়ে গেলে তা মা এবং বাচ্চা উভয়ের জীবনই ঝুঁকিতে ফেলতে পারে - এমতাবস্থায় ডাক্তার তারিখের আগেই সিজার করতে পারেন।

    যমজ বাচ্চাঃ যমজ বাচ্চার ক্ষেত্রে তারিখের আগেই সিজার করে নিরাপদ প্রসব করানো যেতে পারে। যমজ বাচ্চারা মাঝে মধ্যে পেটের ভেতর উলটে থাকতে পারে বা লকড্ টুইনস্ অবস্থায় থাকতে পারে।

    কোমরের নীচের অংশ (যোনী) সরু হলেঃ যদি মায়ের যোনী সরু হয় এবং বাচ্চার মাথার স্থান সংকুলান না করতে পারে তবে যোনিপথে বাচ্চা প্রসব করা অসম্ভব হতে পারে। এমতাবস্তায় স্বাভাবিক প্রসব করার চেষ্টা করাও মা ও শিশুর জন্য ঝুঁকি হতে পারে,এমতাবস্থায় সিজার প্রয়োজন হয়।

    অবশ্যই পড়ুন-

    বাচ্চার অবস্থানঃ মায়ের জরায়ুর মধ্যে বাচ্চা উলটে থাকলে স্বাভাবিক প্রসবে মায়ের যোনিতে ক্ষত হবার সম্ভাবনা থাকে এমনকি প্রসবের এক পর্যায়ে বাচ্চার মাথা আটকে যেতে পারে। এমনঅবস্তায় সিজার জরুরি হয়ে পড়ে। 

    প্লাসেন্টা প্রিভিয়া (ফুল নিচের দিকে থাকাঃ যখন গর্ভফুল জরায়ুর নিচের দিকে অর্থাৎ জরায়ুমুখের কাছে থাকে তখন তা বাচ্চা প্রসবে বাধা সৃষ্টি করে।

     ইনফেকশনঃ কোনও কোনও ইনফেকশন যোনি থেকে সংক্রমিত হয়। তাই এসব ক্ষেত্রে সিজার করলে মা থেকে বাচ্চার শরীরে রোগ সংক্রমন প্রতিরোধ করা সম্ভব। যেমন- যৌন হার্পিস। এই রকম পরিস্থিতি সিজার করায় প্রয়োজন হয়।

    মায়ের সমস্যাঃ মায়ের কোনও সমস্যা যেমন- হার্টের অসুখ থাকলে স্বাভাবিক প্রসবের ধকল এড়াতে সিজার করা যেতে পারে।

     বাচ্চার বৃদ্ধি কম/ থেমে গেলেঃ যেসব বাচ্চারা মায়ের গর্ভে ঠিকমতন বাড়ে না সেসব বাচ্চা প্রসবের আগে আগে মাতৃগর্ভেই মরে যাবার সম্ভাবনা থাকে। যদিও এসব ক্ষেত্রে সিজারের গুরুত্ব তেমনভাবে গবেষনা করা হয়নি তবে এসব ক্ষেত্রেও আপনার ডাক্তার সিজার করতে পরামর্শ দিতে পারেন।

     বড় বাচ্চাঃ বাচ্চা যদি বড় হয় (যেমন ডায়েবেটিক মায়েদের ক্ষেত্রে) তবে সিজার প্রয়োজন হতে পারে।

     আগের সিজারঃ আগে পেটে বড় কোনও অপারেশন হয়ে থাকলে বা আগের দুটি সিজার হয়ে থাকলে জরায়ুর দেয়াল ফেটে যাওয়া এড়াতে ডাক্তার সিজার করতে চাইতে পারেন। এমন সমস্যা এড়িয়ে চলতে সিজার প্রয়োজন হয়।

    অবশ্যই পড়ুন-

    গর্ভাবস্থায় জরায়ুর কোনও টিউমারঃ (ক্যান্সার ব্যতীত) কখনও কখনও গর্ভাবস্থায় নারীদের টিউমার ধরা পড়তে পারে। টিউমারের কারনে প্রসবে সমস্যাও দেখা দিতে পারে অথবা বাচ্চার জন্মগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব ক্ষেত্রে তারিখের ২-৩ সপ্তাহ আগেই ইলেক্টিভ সিজার করা হতে পারে।

    ইমারজেন্সি সিজারঃ ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রে হয়ত রোগীর আত্মীয়-স্বজনকে ডাক্তার বুঝিয়ে বলার সময় নাও পেতে পারেন। যদি স্বাভাবিক প্রসবে মা বা বাচ্চার সমস্যা হবার সম্ভাবনা থাকে তবে ডাক্তার সিজারের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। দুঃখের বিষয় এই যে, বাংলাদেশে ধাত্রীরা সঠিকভাবে প্রশিক্ষিত না হবার কারনে ঝুঁকিপূর্ণ মায়েদেরকে এমন দেরী করে ডাক্তারের কাছে পাঠান যখন মায়ের ও বাচ্চার জীবন অনেকাংশে বিপদগ্রস্থ হয়ে আছে।

    ইমারজেন্সি সিজারের কিছু ক্ষেত্রঃ বাচ্চা ঠিকমতন অক্সিজেন পাচ্ছেনা এমন সময় স্বাভাবিক প্রসবের কালক্ষেপন করলে বাচ্চা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। প্রসব অগ্রসর হচ্ছে না যদিও মা চেষ্টা করে যাচ্ছেন, এবং সময়মতন বাচ্চা প্রসবের রাস্তা দিয়ে নামছে না। এতে মা ও শিশু উভয়েরই সমস্যা হতে পারে। ইন্ডাকশন দেয়ার পরও স্বাভাবিক প্রসবের জন্য প্রয়োজনীয় সঙ্কোচন না হলে। মাসিকের রাস্তা থেকে রক্তপাত প্রসবের সময় হলে। ইমারজেন্সি ক্ষেত্রে বাচ্চাকে দ্রুত প্রসব করাতে হয় (সাধারনত ৩০ মিনিটের মধ্যে)। এক্ষেত্রে মা ও শিশু উভয়ের কথা চিন্তা করে সিজার সবচেয়ে ভাল পদ্ধতি।

    বেশি বয়সে মাতৃত্বঃ ৩৫ বছরের উর্দ্ধে মা হলে গর্ভাবস্থায় জটিলতা দেখা দিতে পারে এবং এসব ক্ষেত্রে সিজার প্রয়োজন হতে পারে। যেসব জটিলতা হতে পারে।

     উচ্চ রক্তচাপঃ গর্ভাবস্থায় ডায়েবেটিস জরায়ুমুখ ঠিকমতন প্রসারন না হওয়া। ঔষধ দেয়ার পরও ইন্ডাকশন ঠিকমতন না হওয়া। বড় বাচ্চা হওয়া। বাচ্চা মায়ের পেটের ভেতর উলটে যাওয়া বা ব্রিচ হওয়া। গর্ভফুল নীচের দিকে থাকা (প্লাসেন্টা প্রিভিয়া)

    সিজার পরবর্তী সময় মায়ের জন্য ঝুঁকিসমূহঃ

    সিজারের পর আপনার সিজারের জায়গায় ব্যাথা হতে পারে এবং আপনাকে ব্যাথানাশক দেয়া হতে পারে। আপনাকে ২৪ ঘন্টা ক্যাথেটার (মূত্র বের জন্য পাইপ) দেয়া হবে। 

    বাসায় আপনাকে সাহায্য করার মতন লোক আছে কিনা তার ওপর নির্ভর করে আপনাকে দুই থেকে চারদিনের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেয়া হবে। আপনাকে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি হাঁটাচলা আরম্ভ করতে বলা হবে। যখন আপনি আর ব্যাথা অনুভব করবেন না তখন থেকে আপনি গাড়িও চালাতে পারবেন। সিজারের ছয় সপ্তাহ বা এর আগেই আপনি গাড়ি চালাতে পারতে পারেন। 

    সিজারের সময় মায়ের যেসব ঝুঁকি থাকেঃ 

    ক্ষতস্থানে ইনফেকশনঃ (সংক্রমন) জরায়ুর ইনফেকশন (এন্ডোমেট্রাইটিস) এর কারনে জ্বর, পেটে ব্যাথা আর মাসিকের রাস্তা দিয়ে অস্বাভাবিক নিঃসরন হতে পারে। পায়ের শিরায় রক্ত জমাট (থ্রম্বোসিস) বাধতে পারে, যা ফুসফুসে পৌঁছলে বিপজ্জনকও হতে পারে।

    অতিরিক্ত রক্তপাতঃ মূত্রথলী বা মূত্রনালীতে কোনও সমস্যা যার জন্যে পরবর্তীতে অপারেশন প্রয়োজন হতে পারে।এখনকার অপারেশন এবং অপারেশন পরবর্তি পদেক্ষেপের জন্যে ইনফেকশন অনেকখানি কমে এসেছে।

    অবশ্যই পড়ুন-

    বাচ্চার জন্য ঝুঁকিঃ বাচ্চার জন্য সাধারনত ঝুঁকি তেমন একটা নেই। তবে অপারেশনের পর বাচ্চার জীবনের প্রথম কিছুদিন শ্বাসের সমস্যা হতে পারে। জন্মের পর প্রথম কিছুদিন বাচ্চা ঘন ঘন শ্বাস নিতে পারে, একে ট্রান্সিয়েন্ট ট্যাকিপ্নিয়া বলে। সাধারনত ২-৩ দিনেই এটি ঠিক হয়ে যায়।

    সিজারের পর যোনিপথে প্রসব (ভ্যাজাইনাল বার্থ আফটার সিজার বা ভিবিএসি)

    আপনার আগের যদি একটি সিজার হয়ে থাকে তবে আপনি পরেরটি স্বাভাবিকভাবে প্রসব করাতে পারেন। যদিনা প্রথম সিজার এমন কোনও সমস্যার কারনে হয়ে থাকে যা এখনও বিদ্যমান। যেমন যদি কারও শ্রোনীচক্র (কোমরের নীচের অংশ) সরু হয় তবে তার প্রতিবারই সিজার করা লাগবে।

    সিজার করায় কি কি ক্ষতি হয়ঃ

    ইনজেকশনঃ সিজারের সময় মেরুদণ্ডে যে ইনজেকশন দেওয়া হয় সেই ইনজেকশনটা কে পুশ করেছিল মহিলা ডাক্তার নাকি পুরুষ ডাক্তার?  

    এই ইনজেকশনটায় পরবর্তীতে কি কি ক্ষতি হয় জানেন? বর্তমানে সিজারের শতভাগ কাজ কি মহিলা ডাক্তাররাই করেন? নাকি কিছু কাজে পুরুষ ডাক্তারের সাহায্য নিতে হয়?

    পৃথিবীতে কোনো প্রাণীর সিজার লাগে না, মানুষের কেন লাগে?

    মানুষের সিজার লাগার কারণহলো, শুশুর ফোন দিয়ে বলবে আমার মেয়ের কিছু হলে জামাই তোমাকে ছাড়বো না, শাশুড়ি বলে আমার মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করুন টাকা যা লাগে আমি দিবো। আর শালা শালি তো আছেই। তার পর ডাক্তারের কথা বললে তো আইডি আজই নষ্ট হবে। 

    হাসপাতালে গর্ভবতীকে নেবার পরে, ডাক্তার দেখা মাত্র চেক-আপ করে এই ৩ টি ডায়লগের যেকোনো একটি দিয়ে থাকেন।

    1. বাচ্চা পানিশূন্যতায় আছে।
    2. বাচ্চা পেটের ভিতরে পায়খানা করে দিয়েছে।
    3. বাচ্চার পজিশন উল্টা।

    এই কথাগুলোর যেকোনো একটা শোনার পর গর্ভবতীর এবং তার পরিবারের লোকে অবস্থা কি হতে পারে অনুমান করা কষ্টসাধ্য নয়। বাংলাদেশের সমস্ত প্রাইভেট হাসপাতালের গত ৫ বছরের ডেলিভারি রিপোর্ট দেখলে, দেখা যাবে প্রায় ৯০% সন্তান সিজারে ডেলিভারি করানো হয়েছে।

    100 মহিলা ডাক্তার এর মধ্যে একজন মহিলা ডাক্তার সিজার ডেলিভারি হয়েছে এমন খুঁজে পাওয়া খুব কষ্টকর আর সাধারণ মানুষ হসপিটালে যাওয়া মাত্রই সিজার সিজার সিজার সিজারে এতো টাকা বিল আসে কেন, যাচাই করার কোন উপায় কি আছে আমাদের দেশে। সিজারের সময় যে এক কার্টুন ঔষধ ও টি তে নেওয়া হয়, তা কি সব লাগে? বাকি ঔষধ কোথায়? 

    সিজার ডেলিভারির জন্য, আমাদের দেশের মায়েরা অর্ধপঙ্গু হয়ে যাচ্ছে। এটাকে বন্ধ করুন।মা’কে বাঁচান, বাচ্চা কে বাঁচান। তবে আমি মনে করি, কিছু কিছু ডাক্তার নিজের স্বার্থের জন্য হয়ত সিজার করতে বলেন। কিন্তু সব ডাক্তার নয়। এখন সিজারের সংখ্যা কেন বেড়ে গেছে তার কারণটা আমার কাছে মনে হয় ব্যাপারটার উৎপত্তি আমাদের জন্ম থেকে। আপনি আপনার দাদা দাদী / নানা নানীর দিকে তাকান । 

    উনারা দেখবেন, বুড়ো বয়সেও কত শক্তিশালী। আমাদের দাদা নানারা দেখবেন, ৭০ বছর বয়সেও অনেক দূর হেটে হেটে নামাজ পরতে যাচ্ছে , চা খেতে যাচ্ছে। আমার দাদা ৮০+ বয়স হওয়ার পরেও চশমা ছাড়া পেপার পরত । এবার আমাদের বাবা মায়ের দিকে তাকান। কিছু পরিবর্তন পাচ্ছেন ? উনাদের কোমর ব্যাথা , হাটু ব্যাথা , হাড় ক্ষয় হয়ে যাওয়া ধরনের অসুখ দেখতে পাচ্ছেন ? বর্তমান বাংলাদেশে বেশী সংখ্যক "মা” দের পেট কেটে সিজার করে বাচ্চা বের করা হচ্ছে, এতে অনেক "মা" মারা যাচ্ছে। অথচ আমাদের দাদী-নানিরা ১০/১২ টা করে বাচ্চা জন্ম দিয়েছে, সৃস্টিকর্তার কৃপায় তেমন সমস্যা হয়নি।.

    হয়তো কেউ বলবেন "অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ার কারণে বর্তমানে "সিজার" করতে হয়, আমি বলব আপনার ধারণা ভুল। তাই যদি হয় তাহলে তো আমাদের দাদি-নানিদের বিয়ে হয়েছে মাত্র ১১/১২ বছর বয়সে, কই তাদের তো কিছু হয়নি…!!

    (দুঃখিত আমি তর্ক করতে চাচ্ছি না

    একটা সিজার মানে একটা মায়ের জীবন শেষ,,!! সিজার মানে একটা মায়ের মৃত্যুর আজ পর্যন্ত প্রতিবন্ধী হয়ে বেঁচে থাকা,! পার্থক্য টা খেয়াল করেন। যাদের নরমালে বেবি ডেলিভারি হয় তাদের নাড়ী ছেঁড়া ধন হয় আর যাদের  সিজার হয় তাদের হয়তো নারী ছেড়া হয়না কিন্তুু নাড়ী কাটা ধন হয়! 

    হয়তোবা সিজার করানোর সময় এ্যানেসথেসিয়ার এর জন্য বুঝা যায়না পেট কাটাটা! খেয়াল করে দেখবেন আধাঘণ্টার মধ্যে তিনটা স্যালাইন শেষ হয়! 

    কিন্তু মোটা সিরিন্জ দিয়ে মেরুদণ্ডে দেয়া ইনজেকশন টা প্রতিটা সিজারিয়ান মা কে সারাজীবন কষ্ট দেয়! মা গুলোর কখনো কখনো শরীরের বিভিন্ন জায়গা অবস হয়ে থাকে বসা থেকে উঠতে পারেনা সংসারের যাবতীয় কাজ করতে ওনাদের অনেক কষ্ট হয়! তবুও করতে হয়! কারন, ওনারা নারী জাতী।

    বিশ্বাস করেন-যখন অবসের মেয়াদ টা চলে যায় তখন  প্রতিটা মা গলা ছুলা মূরগীর মতো ছটফট করতে থাকে ২৪ ঘন্টা এক টানা সিজারিয়ান মায়ের শরীরে স্যালাইন চলে, শরীরের ও কাটা জায়গার ব্যাথার জন্য  ক্যানোনিকাল স্যালাইন চলে টানা ২৪/৩২ ঘন্টা  টানা ২ দিন শরীরে খিচুনি ও মাথা বাড়ি হয়ে বিছানায় পরে থাকতে হয় প্রতিটা মায়ের।

    যদি কোনো প্রতিষ্ঠান সিজারের প্রয়োজন নেই তাও ব্যবসার জন্য কোনো মা কে সিজার করায় তাহলে আল্লাহর কাছে তাদের কঠিন জবাবদিকরতে হবে।

    যত সম্বভ সিজার কে না বলুন!!

    তথ্য টা একটু পড়ুন -করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে সিজারের হার কমেছে। মায়ের মৃত্যুর হারও কমেছে, নরমালে জন্ম নিচ্ছে সুস্থ সবল শিশু।

    করোনায় লকডাউনে দেশে ১ লাখ ৭৫ হাজার শিশুর জন্ম হয়েছে, এর মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ শিশুর জন্ম হয়েছে সিজার করে। বাকি ৯৬ শতাংশ শিশুর জন্ম হয়েছে নরমালে।

    প্রিয় "মা" বাবা আমার হৃদয় নিংড়ানো সম্মান দিয়ে আপনাদের কিছু কথা বলতে চাই খারাপ লাগতে পারে, ক্ষমা করবেন। "প্রত্যেক বালা-মুসিবত আল্লাহর পরিক্ষা স্বরুপ এটা সবাইকে মানতে হবে। তবে সিজারের জন্যে ও বাচ্চা বড় হয়ে DJ মার্কা হওয়ার পিছনে বেশির ভাগ আপনারাই দায়ী!

    গবেষণায় দেখা গেছে, সিজারের বাচ্চাদের ভবিষ্যতে রোগ-বালাই বেশি হয়। আগের গর্ভবতী মায়েরা গর্ভাবস্থায় সৃস্টিকর্তার উপর ভরসা করতো। আর বর্তমান আপনার ভরসা ডাক্তারের উপর। দুই তিন মাস যেতে না যেতেই স্বামীকে বলেন, আমারে চেক-আপ করান, বাচ্চা মনে হয় উল্টা হয়ে আছে। ক্লিনিকে গেলে "কিছু কসাই ডাক্তার" আপনাকে ভয় দেখায়। ফলে আপনি মানুষিক ও শারীরিক ভাবে দুর্বল হয়ে পরেন।

    আগের গর্ভবতী মায়েরা গর্ভাবস্থায় পবিত্র গীতা,বেদ,বাইবেল, ত্রিপিটক,পবিত্র কোরআন পড়তো, নামাজ পড়তো, । আর আপনি বর্তমানে ঘরে বসে ২৪ঘন্টা ডিস লাইনের (কিছু মা)

    আগের গর্ভবতী মায়েরা গর্ভাবস্থায় সব ধরনের সাংসারিক কাজ করতো, এমনকি গর্ভাবস্থায় ঢেঁকিতেও ধান বানতো। (আবার এটা ভাইবেন না এগুলো আমি করতে বলতেছি) আর আপনি বর্তমানে ফুলের বিছানা থেকে উঠতে চান না। আগের গর্ভবতী "মা" দের চেহারা, পেট, পিঠ সহজে কোনো পরপুরুষ দেখতে পেতনা।

    আর বর্তমান আপনার পেট পিঠ গঠনে সবার নজর লাগে, বেপর্দাই চলাফেরা করেন। আগের গর্ভবতী মায়েরা প্রাকৃতিক শাকসবজি, ফলমূল লতাপাতা বেশী খেতো আর বর্তমানে আপনি গরু, ব্রয়লার মুরগী, বড় বড় মাছ ও যত ফরমালিন যুক্ত ফলমূল শাকসবজি খেয়ে থাকেন। আপনার নিয়ত ঠিক নাই, আপনার সমস্যা তো হবেই। আর সিজারতো লাগবেই।

    বিঃদ্রঃ গর্ভকালীন আগে ও পরে নিয়মিত ৬ মাস নিচের তিনটি প্রাকৃতিক পণ্য -

    • স্পিরুলিনা ক্যাপসূল,
    • জিংক প্লাস পাউডার ও
    • নিউট্রিয়েন্ট ক্যালসিয়াম পাউডার খাওয়ান  সিজার ছাড়াই নরমাল ডেলিভারি হবে। 

    সৃস্টিকর্তা সবাই কে সঠিক জ্ঞান বুঝ দান করুক।

    সোর্চঃ ফেসবুক পেজ

    জনসচেতনতায় ও তথ্য সংগ্রহেঃ মোঃ রকি ইসলাম 

    By commenting you acknowledge acceptance of Whatisloved.com-Terms and Conditions

    Post a Comment

    By commenting you acknowledge acceptance of Whatisloved.com-Terms and Conditions

    Post a Comment (0)

    Previous Post Next Post