সিভি লেখার নিয়ম: কিভাবে বায়োডাটা লিখতে হয়?

কলেজ লাইফ থেকে শুরু করে চাকরি জীবনে এমনকি রাজনৈতিক প্রয়োজনে বিভিন্ন সময় সিভি লিখতে হয়। অধিকাংশ লোক সিভি লেখার বা সিভি তৈরি করার সঠিক নিয়ম না জানার করে অন্যের জীবনবৃত্তান্ত হুবহু কপি করে নিজের সিভি তৈরি করেন। আসলে এভাবে সিভি তৈরি করা মোটেও উচিত নয়। আপনি সেই সিভি অন্যের নিকট থেকে কপি করে লিখেছেন নাকি নিজের অভীজ্ঞতা থেকে তৈরি করেছেন সেটা চাকরিদাতা একপলক চোখ বুলিয়েই বুঝে নিতে পারেন। অন্যের লেখা সিভি আর আপনার নিজের লেখা সিভি’র কোয়ালিটি বা স্টাইল কোনভাবে এক হতে পারে না

    কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান একজন ব্যক্তিকে চাকরির ইন্টারভিউতে ডাকার পূর্বে সিভি দেখে অনুমান করে নেয় সেই ব্যক্তি তাদের কোম্পানির জন্য উপযুক্ত কি না? কোন ভালোমানের কোম্পানি কিংবা একজন চাকরিদাতা কোন ভরসায় তাঁকে দায়িত্বশীল পদে নিয়োগ দেবেন 

    দরখাস্ত লেখার নিয়ম

    যে নিজের সিভি নিজে তৈরি করতে পারে না? সে জন্য চাকরি বা অন্য যেকোন প্রয়োজনে সিভি লিখতে হলে অবশ্যই সিভি লেখার নিয়ম ভালোভাবে জেনে নিয়ে নিজে নিজে একটি পূর্ণাঙ্গ সিভি তৈরি করবেন।

    সিভি কি?

    সিভি লেখার নিয়ম: কিভাবে বায়োডাটা লিখতে হয়?
    সিভি লেখার নিয়ম

    সিভি (CV) এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Curriculum Vitae. আসলে সিভি হচ্ছে ২/৩ পাতার একটি সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত যেখানে একজন লোকের নাম, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতার মূল অংশসহ আরো কিছু আনুষাঙ্গিক বিষয় উল্লেখ থাকে। তবে চাকরির ইন্টারভিউ এর পাশাপাশি একাডেমিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও সিভি’র এর ব্যবহার রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সিভি ইংরেজিতে লেখা হয়ে থাকে। তবে বর্তমানে কোন কোন ক্ষেত্রে বাংলা ভাষায় লেখা হচ্ছে।

    Resume কি?

    সিভি এবং রিজুউম প্রায় এক জিনিস। যদিও দুটি জিনিস এক ধরনের কাজে বা একই অর্থে ব্যবহার হয়ে থাকে তবুও এই দুটির গঠনগত দিক থেকে কিছুটা ভিন্নতা আছে। সাধারণত সিভি ২-৩ পাতার হয় কিন্তু রিজুউম সবসময় এক পাতায় হয়ে থাকে। তাছাড়া সিভিতে বিভিন্ন বিষয়ে কিছু ব্যাখ্যা বা বর্ণনা দেওয়া হয় কিন্তু রিজুউমে সকল তথ্য খুব সংক্ষেপে লেখা হয়।

    সিভি (CV) ও Resume এর মধ্যে পার্থক্য কি?

    সিভি (CV) ও Resume এর মধ্যে প্রধান পার্থক্য হচ্ছে সিভিতে একজন ব্যক্তির জীবন বৃত্তান্ত কিছুটা বিষদভাবে বর্ণনা করা হয় কিন্তু Resume এ একজন ব্যক্তির দক্ষতা ও অভীজ্ঞতা সহ অন্যান্য বৃত্তান্ত খবুই ক্ষুদ্র পরিষরে লেখা হয়। তাছাড়া Resume এ ডিজাইন অনেকটা এ্যাডভান্স লেভেলের হয়ে থাকে কিন্তু সিভি লেখার ক্ষেত্রে ডিজাইনের চাইতে ইনফরমেশনকে বেশী গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে আমাদের দেশে অধিকাংশ চাকরি বাকরির ক্ষেত্রে সিভি (CV) ও Resume একই অর্থে ব্যবহার হয়।

    সিভিতে কী কী বিষয় উল্লেখ করবেন?

    কাজের ধরণ অনুসারে সিভিতে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংযোজন করা প্রয়োজন। আসলে এটা পুরোপুরি নির্ভর করবে আপনি কি কাজের জন্য বা কিসের জন্য সিভি লিখছেন। কাজের ধরণ অনুসারে সিভি একটু ভিন্ন হলেও অধিকাংশ সিভি’র কিছু বেসিক ইনফরমেশন থাকে যেগুলো সব ধরনের সিভিতে এক ধরনের হয়। সিভিতে কী ধরনের  তথ্য উল্লেখ করবেন সেটা সিভি লেখার পূর্বে ঠিক করে নিতে হবে। অপ্রয়োজনীয় তথ্যাদি দিয়ে অযথা সিভি বড় করা উঠিত নয়। কারণ সিভিতে যত সংক্ষেপে আপনার ইনফরমেশন তুলে ধরে মূল বিষয় বুঝাতে পারবেন আপনার সিভি তত স্মার্ট হবে এবং সহজে চাকরিদাতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবেন।

    নিচে আমরা কয়েকটি পয়েন্ট উল্লেখ করছি যেগুলো সাধারণত সব ধরনের সিভিতে উল্লেখ করতে হয়।

    নাম ও ঠিকানাঃ

    সিভির প্রথম অংশে আপনার একাডেমিক সার্টিফিকেট এর নামানুসারে পুরো নাম লিখতে হবে। এখানে আপনার ইচ্ছামত ডাকনাম বা ছদ্মনাম লিখবেন না। বেশি পান্ডিত্য দেখানোর জন্য নামের পূর্বে মিস্টার বা মিসেস ব্যবহার করতে যাবেন না।

    আপনার ঠিকানা লেখার ক্ষেত্রে অবশ্যই সংক্ষেপে স্পষ্ট করে লিখবেন যাতে সেই ঠিকানায় চিঠি পাঠালে সহজে আপনার হাতে পৌছায়। এ ক্ষেত্রে পোস্ট অফিসের নাম ও কোড নং যাচাই করে লিখবেন। বর্তমানে যেহেতু তথ্য প্রযুক্তির যুগ সেহেতু যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নাম্বার ও ইমেইল এড্রেস ঠিকানার সাথে যুক্ত করে দিতে পারেন। নাম ও ঠিকানা হিসেবে নিচের তথ্যগুলো যুক্ত করে নিবেন।

    • নিজের নার (সার্টিফিকেট অনুসারে)।
    • মোবাইল নাম্বার অথবা ফোন নাম্বার (যেকোন একটি)।
    • ইমেইল এড্রেস (harun@gmail.com Not smartharun@gmail.com)।
    • পূর্ণ ঠিকানা (পোস্ট অফিস এর ঠিকানা গুরুত্বপূর্ণ)।
    • ফেসবুক প্রোফাইল (As you want)।

    সারাংশ (Objective):

    আপনি যে পদে চাকরির জন্য আবেদন করছেন সেই পদে চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হলে আপনি কিভাবে নিজের কাজ এবং দায়িত্ব পালন করবেন, এখানে সেটা সংক্ষেপে লিখে দিবেন। সিভি এর এই অংশকে ‘Personal Statement’ বা ‘Objective’ বলা হয়। এক কথায় আপনাকে চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হলে আপনি কিভাবে সেই দায়িত্ব পালন করবেন বা অফিস হ্যান্ডেল করবেন ইত্যাদি বিষয়ে ৩/৪ লাইনে সংক্ষেপে লিখে দিবেন। 

    পেশাগত কাজের অভিজ্ঞতাঃ

    আপনি যে ধরনের চাকরির জন্য আবেদন করবেন সেই ধরনের কাজের বিষয়ে কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে কি না কিংবা পূর্বে সেই ধরনের কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন কি না এই অংশে সেই বিষয়ে লিখবেন। যে পদের চাকরির জন্য সিভি তৈরি করছেন সেই সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে সেটি সিভির সাথে যুক্ত করে দিতে পারেন। নিচের বিষয়গুলো কাজের অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করলে সিভি অধিক স্মার্ট হবে।

    • প্রতিষ্ঠানের নাম।
    • চাকরিকালীন পদবী।
    • কত সাল থেকে কত সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।
    • Job Responsibility.
    • Special Achievement.

    শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ

    যেকোনো কোম্পানিতে চাকরি পাওয়ার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। সে জন্য স্কুল থেকে আজ অবধি যত ধরনের একাডেমিক সার্টিফিকেট আছে সবগুলোর তথ্য পরিষ্কারভাবে লিখে দিবেন। আপনি কোন স্কুল বা কলেজে পড়েছেন, কি কি ডিগ্রী অর্জন করেছেন এবং প্রত্যেকটি পরীক্ষায় কোন গ্রেড বা বিভাগ (মার্ক) পেয়েছেন সেই সব তথ্য সংযোজন করে দিতে হবে।

    তাছাড়া যাদের কোন বিষয়ে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করার অভীজ্ঞতা আছে তারা অবশ্যই সেটি সিভিতে লিখে দেবেন। কোনো জাতীয় বা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিলে এবং সেটির কোন সনদ থাকলে তার সংক্ষিপ্ত তথ্য যুক্ত করে দিতে পারেন। নিচের বিষয়গুলো শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ করতে পারেন।

    • প্রশিক্ষণের বিষয়ে যেকোন অভিজ্ঞতা।
    • যেকোন গ্রাজুয়েশন (এসএসসি, এইচএসসি, বিবিএ, এমবিএ)।
    • কোর্সের সময়কাল (কত থেকে কত)।
    • শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম ও শিক্ষা বোর্ড।
    • পরীক্ষার সন ও রিজাল্ট পাবলিশ হওয়ার সন।
    • একাডেমিক বিষয়ে অন্য কোন শিক্ষা সনদ।

    ভাষাগত দক্ষতাঃ

    সাধারণত আমাদের দেশে চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি জানাটা বাধ্যতামূলক। ইংরেজি ভাষা দক্ষতা সংক্রান্ত পরীক্ষা—যেমন আইইএলটিএস বা টোয়েফলে অংশ নিলে তার স্কোর লিখে দেবেন। এছাড়া অন্য কোনো ভাষা জানা থাকলে গুরুত্ব বিবেচনায় সেটিও উল্লেখ করে দিতে পারেন।

    কম্পিউটার-দক্ষতাঃ

    বর্তমানে অধিকাংশ চাকরির ক্ষেত্রে কম্পিউটার জানা বাধ্যতামূলক। প্রায় সব ধরনের চাকরির ক্ষেত্রে কম্পিউটার বিষয়ে বেসিক ট্রেনিং এর সার্টিফিকেট সহ কম্পিউটার বিষয়ে বেসিক জ্ঞান থাকতে হয়। সে জন্য মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল ও পাওয়ারপয়েন্টের কাজ জানা থাকলে তা অবশ্যই সিভিতে উল্লখ করবেন। এছাড়া কম্পিউটার বিষয়ে অন্যকোন অভীজ্ঞতা থাকলে সেটিও অবশ্যই উল্লেখ করে দিবেন। আপনার চাকরির আবেদনটি কোন কম্পিউটার বা আইটি কোম্পানির হলে এই অংশে কম্পিউটার বিষয়ক সকল তথ্য অল্প শব্দে বিস্তারিত উল্লেখ করে দিবেন। কম্পিউটার দক্ষতা হিসেবে নিচের পয়েন্টগুলো উল্লেখ করতে পারেন।

    1. Report Writing & Editing.
    2. Phone, Email & Face to Face Communication.
    3. MS Office Application Proficient.
    4. Data Entry Proficient.
    5. Any other Computer Experience.

    রেফারেন্সঃ

    আপনি সম্প্রতি যে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় হতে লেখা পড়া শেষ করেছেন সেই কলেজের শিক্ষকরা ভালো রেফারেন্স হিসেবে কাজ করেন। কারণ সর্বশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা আপনাকে ভালোভাবে চিনে এবং জানে। সে জন্য শেষ প্রতিষ্ঠানের যেকোন একজন ভালো শিক্ষককে জানিয়ে তাঁর নাম ও পদবি ব্যবহার করুন। কোন কোন ক্ষেত্রে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান থেকে রেফারেন্সে যাঁর নাম থাকে, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এ ক্ষেত্রে যে শিক্ষকের নাম সিভিতে উল্লেখ করবেন তাকে অবশ্যই বিষয়টি আগে থেকে অবগত করে রাখবেন।

    অঙ্গীকারনামাঃ

    সিভিতে যুক্ত আপনার সব তথ্য সঠিক ও নির্ভুল তার স্বপক্ষে আপনাকে অবশ্যই অঙ্গীকার দিতে হবে। কাজেই সিভি দাখিল করার পূর্বে বার বার সকল তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নিবেন। ভূল তথ্যের কারনে আপনার সিভি বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তাছাড়া চাকরিদাতা আপনার সকল তথ্য যাচাই করার আইনগত অধিকার রাখে বিধায় কোনো ভুল তথ্য দেবেন না।

    সিভিতে ছবি যুক্ত করাঃ

    যে ছবিতে আপনার চেহারা বোঝা যায় এমন যেকোনো ছবি সিভিতে ব্যবহার করবেন। ছবি অবশ্যই সদ্য তোলা হতে হবে। ছবি চশমা ছাড়া পরিপাটি পোশাকে এবং চুল গুছানো অবস্থায় তুলবেন। কারণ ভালো ছবি আনার উত্তম মন-মানুষিকতার পরিচয় বহন করে।

    স্বাক্ষর ও তারিখঃ

    উপরের সবগুলো ধাপ ঠিকমত ফিলআপ করলে আপনার একটি পরিপূর্ণ সিভি রেডি হয়ে যাবে।সবশেষে নিজের নামের ওপরে একটি Signature (স্বাক্ষর) করে তারিখ বসিয়ে দিলেই আপনার সিভি লেখা কমপ্লিট হবে

    সিভি’র ফরমেট কেমন হওয়া উচিত?

    সিভি হচ্ছে এমন একটি বৃত্তান্ত যেটি দেখে চাকরি দাতারা আপনাকে না দেখেও আপনার সম্পর্কে মোটামোটি ধারনা করে নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে সিভি’র মাধ্যমে আপনার ব্যক্তিত্ব কোন প্রতিষ্ঠানের কাছে তুলে ধরার জন্য সুন্দর ও স্মার্ট সিভি’র গুরুত্ব অপরিসীম। আপনার সিভিটি শুধুমাত্র তথ্যে ভরা থাকলেই সেটি তথ্যবহুল হয়ে উঠবে না। কারণ সিভিতে থাকা তথ্য পরিপাঠি করে ইনক্লোড করা না থাকলে ভালো তথ্য থাকা সত্বেও সিভিটি পাঠকের কাছে বোধগম্য হয়ে উঠবে না। নিচের কয়েকটি নিয়ম মেনে আপনার সিভিকে আরো গ্রহনযোগ্য করে তুলতে পারেন।

    সিভি’র দৈর্ঘ্য (Length):

    সিভি’র প্রত্যেকটি অংশ লেখার সময় অবশ্যই ভালো করে খেয়াল রাখতে হবে যাতে সিভি’র কোন অংশের বর্ণনা অধিক লম্বা না হয়। আপনি এমন শব্দ ব্যবহার করবেন যাতে অল্প শব্দে বেশি কথা বুঝানো যায়। বেশি কথা বুঝানোর জন্য সর্বোচ্ছ ৩/৪ লাইনের মাধ্যমে পুরা ব্যাপারটি বুঝিয়ে বলতে হবে। তাছাড়া অল্প লেখায় বেশী বুঝাতে পারলে  চাকরিদাতারা আপনাকে বুদ্ধিমান হিসেবে ধরে নিবে।

    কোন সাইজের কাগজে সিভি লিখবেন?

    আপনি অনলাইনে কিংবা প্রিন্ট করে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে সিভি সাবমিট করুন না কেন উভয় ক্ষেত্রে সিভি অবশ্যই A4 সাইজের পেপারে লিখবেন। সিভির ডান পাশে এবং বাম পাশে প্রয়োজনানুসারে পর্যাপ্ত মার্জিন রাখবেন।

    কোন ফন্টে এবং কত ফন্ট সাইজে লিখবেন?

    আপনার সিভিকে আরো অধিক প্রফেশনাল করার জন্য সিভি’র নরমাল বডিতে  Arial, Calibri অথবা Times New Roman ফন্ট ব্যবহার করতে পারেন। সিভির নরমাল অংশগুলো ১০-১২ ফন্টের মধ্যে লিখবেন। আপনার নাম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ হেডলাইন লেখার ক্ষেত্রে ১৪-১৫ ফন্ট ব্যবহার করতে পারেন অথবা গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো Bold ও Italic করে হাইলাইট করে সিভি’র সুন্দর্য বৃদ্ধি করতে পারেন।

    Spelling & Grammar:

    আপনার সিভি’র কোন অংশের বানান কোনক্রমে ভূল করা যাবে না। সিভিতে বানান ভূল লিখলে পুরো সিভিটি চাকরিদাতাদের কাছে গুরুত্ব হারিয়ে ফেলবে। কাজেই সিভি লিখার পর প্রত্যেকটি বানান ডাবল চেক করে নিবেন।

    • সিভি লেখার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ফরমেটঃ
    • ১ – ২ পেইজের মধ্যে সিভি লেখা।
    • ১ – ২ ধরনের ফন্ট কালারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা।
    • পড়ার সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় স্থানে বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার।
    • দুই লাইনের মধ্যে যথেষ্ট স্পেসিং বজায় রাখা।
    • সিভির ডিজাইনে বৈচিত্র্য করা থেকে বিরত থাকা।

    সিভি (CV) লেখার বর্জনীয় বিষয়ঃ

    একটি সিভি চাকরির ইন্টারভিউ এর প্রথম ধাপ। সেই জন্য এটিকে হালকাভাবে না নিয়ে চাকরির প্রথম ধাপ মনেকরে সঠিক ও নির্ভূলভাবে তৈরি করবেন। একটি সিভি তৈরি করার সময় নিচের কয়েকটি বিষয় অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে।

    • নাম লিখার সময় অবশ্যই সার্টিফিকেট অনুসারে পূর্ণ নাম লিখতে হবে। আপনার ডাক নাম লিখার কোন প্রয়োজন নেই। নামের সাথে Mr and Mrs লিখা থেকে বিরত থাকুন।
    • জন্ম তারিখ লেখার সময় জন্ম সনদ ও একাডেমিক সার্টিকেট অনুসারে লিখবেন।
    • স্থায়ি ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা লেখার ক্ষেত্রে ঠিকানা সংক্ষেপে না লিখে পরিপূর্ণ ঠিকানা লিখতে হবে।
    • প্রফেশনাল ইমেইল এড্রেস লিখবেন (harun@gmail.com Not smartharun@gmail.com)।
    • একাধিক মোবাইল নাম্বার যুক্ত করার কোন প্রয়োজন নেই।
    • পেশাগত দক্ষতা লেখার ক্ষেত্রে প্রফেশনালিজম দেখানোর চেষ্টা করবেন।
    • কোন ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য লিখার প্রয়োজন নেই (যেমন-বিবাহ, পরিবার, ছেলে ও মেয়ে)।
    • চশমা পরিহিত ছবি না দিয়ে চশমা ছাড়া সদ্য তোলা রঙ্গিন ছবি যুক্ত করবেন।
    • সিভি যেন কোনোভাবেই দুই পৃষ্ঠার বেশি না হয়। এক পৃষ্ঠায় শেষ করতে পারলে ভালো।
    • নির্ভুল বানান ও ভাষাগত দিক ঠিক রেখে সিভি লিখতে হবে।
    • কোন ধরনের ভূল তথ্য দেওয়া থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।

    সিভি লেখার সহজ নিয়মঃ

    বর্তমানে সিভি লেখাটা অনেক সহজ হয়েগেছে। কারণ অনলাইন হতে খুব সহজে বিভিন্ন ফরমেটের সিভি পাওয়া যায়। সে জন্য চাইলেই একদম সহজে অনলাইন হতে ডাউনলোড করে এ্যাডিট করে একটি সিভি তৈরি করে নিতে পারেন।

    অনলাইনে অনেক টুলস রয়েছে যেগুলোতে শুধুমাত্র তথ্য সংযোজন করে অল্প সময়ে বিভিন্ন ডিজাইনের সিভি তৈরি করা সম্ভব হয়। এমনকি আপনি চাইলে স্মার্টফোন দিয়েও সহজে একটি পূর্ণাঙ্গ সিভি তৈরি করে নিতে পারবেন।

    আমরা ব্যক্তিগতভাবে MS Word ফরমেটে তিনটি সিভি তৈরি করেছি। আপনি আমাদের তৈরি করা সিভিগুলো ডাউনলোড করে আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য সংযোজন ও পরিবর্তন করে চাকরির জন্য একটি সিভি তৈরি করে নিতে পারেন।

    তাছাড়া কিভাবে আপনি অনলাইন হতে কম্পিউটার ও ল্যাপটপ দিয়ে ইংরেজিতে সিভি লিখবেন সে বিষয়েও আলোচনা করব। এ ক্ষেত্রে আপনার কম্পিউটার না থাকলেও আপনার বন্ধু বা সাইবার ক্যাফে হতে অল্প সময়ে একটি সিভি তৈরি করে নিতে পারবেন।

    এছাড়াও সবশেষে আপনি এন্ড্রয়েড বা আইফোন ব্যবহার করে কিভাবে সহজে একটি সিভি তৈরি করবেন সেটিও আমরা দেখাব। মোবাইলের মাধ্যমে সিভি তৈরি করে যেকোন কম্পিউটার এর দোকান থেকে মাত্র ১০ টাকা দিয়ে একটি সিভি প্রিন্ট করে নিতে পারবেন।

    ১। MS Word এ সিভি লিখার নিয়মঃ

    যাদের কম্পিউটার বা ল্যাপটপ আছে তারা সবাই মোটামোটি এমএস ওয়ার্ড সম্পর্কে বেসিক ধারনা রাখে। তাছাড়া সিভি ইংরেজিতে লেখা হয় বিধায় টাইপ করার ক্ষেত্রেও কোন জঠিলতা নেই। আপনার যদি কম্পিউটার না থাকে তাহলে যেকোন সাইবার ক্যাফেতে কিংবা আপনার বন্ধু বান্ধবের কম্পিউটারে অল্প সময়ে সিভি তৈরি করে নিতে পারবেন।

    MS Word ফরমেটে আমরা তিনটি সিভি শেয়ার করে দিলাম। আপনি সিভিগুলো ডাউনলোড করে যেকোন কম্পিউটার থেকে এ্যাডিট করে খুব সহজে নিজের একটি সিভি তৈরি করে নিতে পারেন।

    ২। অনলাইন হতে সিভি তৈরির নিয়মঃ

    অনলাইনে হাজার হাজার ওয়েবসাইট আছে যারা ফ্রিতে প্রফেশনাল ডিজাইনের সিভি তৈরি করার সুযোগ দিচ্ছে। আপনি যদি একটি স্টাইলিস্ট সিভি চান এ ক্ষেত্রে হয় একজন এক্সপার্ট এর সাহায্য নিতে হবে অন্যথায় অনলাইন হতে সিভি তৈরি করে নিতে হবে। কারণ অনলাইনে সিভি তৈরি করার জন্য কোন ধরনের ডিজাইন করা প্রয়োজন। আপনি শুধুমাত্র আপনার পছন্দমত যেকোন ডিজাইন চয়েজ করে সকল তথ্য সংযোজন করে দিলেই অটোমেটিক সিভি তৈরি হয়ে যাবে।

    আপনাদের সুবিধার্তে আমি কয়েকটি CV Maker ওয়েবসাইটের লিংক শেয়ার করে দিচ্ছি। উক্ত CV Maker ওয়েবসাইট হতে অল্প সময়ে একটি আকর্ষণীয় সিভি তৈরি করে নিতে সক্ষম হবেন।

    উপরের প্রত্যেকটি ওয়েবসাইট থেকে ফ্রিতে সিভি তৈরি করে নেওয়া যায়। তবে কিছু সিভি রয়েছে প্রিমিয়াম। আপনার চাকরির সিভি তৈরি করার যাবতীয় ডিজাইন উপরের সবগুলোতে পেয়ে যাবেন। সে জন্য প্রিমিয়াম ডিজাইনের প্রয়োজন হবে না।

    ৩। মোবাইল দিয়ে সিভি তৈরি করার উপায়ঃ

    আপনার যদি কম্পিউটার না থাকে বা কম্পিউটার ব্যবহার করতে না চান তাহলে আপনার হাতে  থাকা স্মার্টফোন দিয়ে একটি পরিপূর্ণ সিভি তৈরি করতে পারবেন। এখন এন্ড্রয়েড মোবাইলের অনেক সিভি মেকার এ্যাপ রয়েছে যেগুলো দিয়ে সহজে সিভি তৈরি করা সম্ভব হয়। নিচের যেকোন এন্ড্রয়েড এ্যাপ দিয়ে আপনার পছন্দমত সিভি তৈরি করতে পারবেন।

    1. Aristoz Resume Builder Free
    2. CV Engineer
    3. Free Resume Builder
    4. LinkedIn
    5. Resumaker

    উপরের প্রত্যেকটি এন্ড্রয়েড এ্যাপ এর গুগল প্লে-স্টোর ডাউনলোড লিংক দেওয়া আছে। আপনার এন্ড্রয়েড ফোন হতে লিংকে ক্লিক করে সরাসরি গুগল প্লে-স্টোর হতে ডাউনলোড করে মোবাইলে ইনস্টল করে নিতে পারবেন।

    মোবাইল দিয়ে সিভি তৈরি করার স্টেপগুলো আপনারা নিজে বুঝতে পারবেন। কারণ মোবাইল দিয়ে সিভি তৈরি করার সকল অপশন মোবাইলে এ্যাপে অটোমেটিক শো করবে। আপনি শুধুমাত্র তাদের নির্দেশনা মেনে প্রয়োজনীয় তথ্য সংযুক্ত করলেই আপনার সিভি তৈরি হয়ে যাবে।

    কিভাবে সিভি সাবমিট করবেন?

    আপনি চাকরির জন্য সিভি তৈরি করুন কিংবা অন্য যেকোন প্রয়োজনে সিভি তৈরি করুন না কেন সিভি তৈরি করার পর অবশ্যই আপনাকে সেই সিভি সাবমিট করতে হবে। সিভি সাবমিট করার ক্ষেত্রে বর্তমানে দুই ধরনের সুযোগ রয়েছে। একটি হচ্ছে পোস্ট অফিস অথবা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সিভি সাবমিট করতে হয় এবং অন্যটি হচ্ছে ইমেইলের মাধ্যমে সিভি সাবমিট করতে হয়।

    আপনি যেভাবে সিভি সাবমিট করার উদ্দেশ্যে সিভি তৈরি করুন না কেন একটি পূর্ণাঙ্গ সিভি তৈরি করার পর সেটি অবশ্যই Doc ফরমেটে সেভ বা ডাউনলোড করে নিবেন। অধিকাংশ লোক একটি কমন ভূল করে থাকে যে, অনলাইনে সিভি তৈরি করার পর PDF ফরমেটে সিভি ডাউনলোড করে। যার ফলে সিভিতে কোন ভুল থাকলে সেটি সংশোধন করা সম্ভব হয় না। সে জন্য ভবিষ্যতে কাজে লাগানোর জন্য কিংবা পুনরায় অন্য চাকরিতে আবেদন করার জন্য সিভি তৈরি করার পর অবশ্যই MS Word কিংবা যেকোন এ্যাডিটএবল ফরমেটে ডাউনলোড করে নিবে।

    ইমেইলে সিভি সাবমিটঃ

    ইমেইলে সিভি সাবমিট করার ক্ষেত্রে আপনার সিভিটি অবশ্যই প্রথমে PDF ফরমেটে সেভ করে নিবেন। কারণ আপনি যদি Doc ফরমেটে সিভি সাবমিট করেন তাহলে সেটি যেকোন কারনে অথবা চাকরি দাতাদের ভুলের কারনে আপনার সিভি নষ্ট বা পরিবর্তন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে PDF ফরমেটে ইমেইলে সিভি পাঠালে আপনার সিভি পরিবর্তন হওয়ার কোন সুযোগ থাকে না।

    MS Word এ তৈরি করা সিভিটি PDF এর কনভার্ট করার জন্য উপরের চিত্রের ১নং আইকনে ক্লিক করে ২নং চিত্রের Save As হতে PDF of XPS এ ক্লিক করলে PDF এ কনভার্ট হয়ে কম্পিউটারে সেভ হবে। তবে এ ক্ষেত্রে আপনার মূল Doc ফাইলটির কোন পরিবর্তন হবে না।

    পোস্ট অফিসের মাধ্যমে সিভি সাবমিটঃ

    পোস্ট অফিস, কুরিয়ার সার্ভিস অথবা সরাসরি সিভি সাবমিট করার ক্ষেত্রে প্রথমে আপনার সিভিটি A4 সাইজের পেপারে প্রিন্ট করে নিবেন। সম্ভব হলে কালার প্রিন্টারে প্রিন্ট করে নিবেন। তবে কালার প্রিন্ট করতে না পারলে কোন সমস্যা নেই।

    তারপর প্রিন্ট করা সিভিতে আপনার স্বাক্ষর করবেন। স্বাক্ষর করার পর একটি খামের বাম পাশে আপনার সিভিতে প্রদত্ত ঠিকানা ও ডান পাশে যে ঠিকানায় পাঠাতে চান সেই ঠিকানা স্পষ্ঠভাবে লিখে নিবেন। সবশেষে আপনার সিভিটি খামের ভিতরে প্রবেশ করিয়ে পোস্ট অফিসে অথবা কুরিয়ার সার্ভিসে দিয়ে আসবেন। সিভি পাঠানোর কিছুদিন পর আপনার স্থানীয় ঠিকানার পোস্ট অফিসে খবর রাখবেন যে, আপনার নামে কোন চিঠিপত্র এসেছে কি না? অথবা আপনার এলাকার পোস্ট মাষ্টারকে আগে থেকে বিষয়টি জানিয়ে রাখবেন। তাহলে আপনার ইন্টারভিউ এর চিঠি আসা মাত্র সহজে হাতে পেয়ে যাবেন।

    আমাদের শেষ কথাঃ 

    বন্ধুরা, আশা করি সিভি লেখার নিয়ম আপনি বুঝতে পারছেন, পোস্টটি ভালো লাগল বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করতে ভুলবেন না। আমাদের (অনলাইন কাজ) ওয়েবসাইট সর্বশেষ আপডেট পেতে আমাদের সাইটটি সাবস্ক্রাইব করতে পারেন নতুন নতুন সব পোস্ট পাওয়ার জন্য ভালো থাকবেন।

    By commenting you acknowledge acceptance of Whatisloved.com-Terms and Conditions

    Post a Comment

    By commenting you acknowledge acceptance of Whatisloved.com-Terms and Conditions

    Post a Comment (0)

    Previous Post Next Post